২৪ কোটি টাকার মাদক অ্যামফিটামিন কুরিয়ারে বিদেশে পাচারের চেষ্টা
Home » ২৪ কোটি টাকার মাদক অ্যামফিটামিন কুরিয়ারে বিদেশে পাচারের চেষ্টা
অপরাধ অর্থনীতি টপ ফোর ব্রেকিং নিউজ রাজধানী সব খবর

২৪ কোটি টাকার মাদক অ্যামফিটামিন কুরিয়ারে বিদেশে পাচারের চেষ্টা

Spread the love

ঢাকা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) ২৪ কোটি টাকার নতুন মাদক অ্যামফিটামিন পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। জিন্সের প্যান্টের আড়ালে কার্টনের গায়ে লাগানো কার্বনের লেয়ার দিয়ে প্রস্তুত পাতলা অ্যালুমিনিয়াম প্যাকেটযোগে এই সব মাদক অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হচ্ছিল।

বুধবার বাংলাদেশ থেকে হংকং হয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর সময় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ থেকে ২৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মূল্যের ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম অ্যামফিটামিন পাউডার জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ছয় জনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অর্থ) খন্দকার ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ (৫০) ও সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) রাসেল মাহমুদ (৩২), ইউনাইটেড এক্সপ্রেসের জেনারেল ম্যানেজার গাজী শামসুল আলম (৪৩), এক্সপোর্ট কার্গোর ভেতরে এমজিএইচ গ্রুপের লোডিং সুপারভাইজার কাজল থুটোকিশ গোমেজ, কার্গো হেলপার বা লোডার মো. হামিদুল ইসলাম (৩০) ও মো. নজরুল ইসলাম। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে।

ডিএনসি জানায়, অ্যামফিটামিনসহ কোনো মাদকই বাংলাদেশে উৎপাদন হয় না। এই মাদক কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশে এসেছে, যার গন্তব্য ছিল হংকং হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। প্রাপক ছিল: দাস সিং ৩৪ কলম্বিয়া রোড, মেলবোর্ন নারে ওয়ারেন লিআইসি ৩৮০৫। এই মাদক চোরাচালানের পেছনে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার(১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সদর দফতরে ডিএনসির নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মো. আহসানুল জব্বার বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রফতানি কার্গো ভিলেজে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস বাংলাদেশ বিমানের মাস্টার এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৯৯৭-৬২৪৪-৯১৩৩ এর বিপরীতে ৩৪০ কার্টন পণ্য এসেসমেন্ট এবং বিধি মোতাবেক দৈবচয়নের ভিত্তিতে কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির উপিস্থিতিতে সিভিল এভিয়েশনের ডুয়েল ভিউ সিকিউরিটি স্ক্যানিং ৩৪০ কার্টন পণ্যের মধ্যে সাতটি কার্টনে তল্লাশি করে জিন্সের প্যান্টের আড়ালে কার্টনের গায়ে ১৪টি বড় প্যাকেট ও ১৪টি ছোট প্যাকেটে মোট ২৮টি কার্বনের লেয়ার দিয়ে প্রস্তুত পাতলা অ্যালুমিনিয়াম প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। সেখানে অভিনব কায়দায় লুকানো মোট ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম সন্দেহজনক দ্রব্য পাওয়া যায়।

পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে নমুনা টেস্ট করে অ্যামফিটামিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ‘ক’ তফশিলভুক্ত মাদক। যে সাতটি কার্টনে অ্যামফিটামিন পাওয়া যায় সেগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রফতানি দলিলাদি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেডের (ফেডেক্স) মাস্টারওয়ে বিল নং ৮১৫১৫৬০২৪৬২৬ এর ছয়টি কার্টন এবং মাস্টারওয়ে বিল নং ৮১৪৯২৬৯৫১৯৭০ এর একটি কার্টনসহ মোট সাতটি কার্টনে শিপারের নাম নেপচুন ফ্রেইট লি. বাড়ি ৫০১, রোড ১৪ কেরানীগঞ্জ। এসব পণ্য রফতানিতে কাস্টমসের জন্য ম্যানুয়ালি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করেছে রফতানিকারকের পক্ষে মেসার্স ডিনামিক ট্রেডার্স (এআইএন:১০১-৯৬০৭২৮). বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লি. (ফেডেক্স) লোকাল এজেন্ট হলো ইউনাইটেড এক্সপ্রেস, ১৬৭, সার্কুলার রোড, ঢাকা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্ততরের ডিজি বলেন, জব্দকৃত অ্যামফিটামিন পাউডারের আনুমানিক কেজিপ্রতি মূল্য দুই কোটি টাকা। সে হিসাবে জব্দ ১২ কেজি ৩২০ গ্রাম অ্যামফিটামিন পাউডারের মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আটকদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিজি আহসানুল জব্বার বলেন, নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেডের উত্তরার আশকোনায় একটি অফিস রয়েছে এবং ওই অফিসের রুবেল হোসেন নামের এক ব্যক্তি ওই সাত কার্টনে তৈরি পোশাক-জিন্সের প্যান্ট অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর জন্য ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লিমিটেডে বুকিং দিয়ে যায়। বনানীর ইউনাইটেড ফ্রেইটের পরামর্শক্রমে ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো নেপচুন ফ্রেইট লিমিটেডের ওই সাতটি কার্টন গ্রহণ করে। পরে ইউনাইটেড এক্সপ্রেস লি. কার্টনগুলো বাংলাদেশ এক্সপ্রেস লিমিটেডে (ফেডেক্স) পাঠায়। ফেডেক্স তার হাবে সংরক্ষণ করে এবং কার্গো ভিলেজে পাঠায়।

নিউজবিএনএ/এসকেকে, এসজিএন