কর্ণফুলী থানার মৌলবী বাজার এলাকায় স্থানীয় কথিত সন্ত্রাসী সাহাবুদ্দিনকে ‘গণ ধোলাই’ এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা
Home » চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে সন্ত্রাসীকে ‘গণধোলাই’ মামলা-পাল্টা মামলা, উত্তেজনা
অপরাধ এক নজরে চট্টগ্রাম টপ ফোর বৃহত্তর চট্টগ্রাম ব্রেকিং নিউজ সব খবর

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে সন্ত্রাসীকে ‘গণধোলাই’ মামলা-পাল্টা মামলা, উত্তেজনা

Spread the love

বিএনএ, চট্টগ্রাম: কর্ণফুলী থানার মৌলভী বাজার এলাকায় স্থানীয় কথিত সন্ত্রাসী সাহাবুদ্দিনকে ‘গণ ধোলাই’ এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এ গণ ধোলাইয়ের ঘটনা ঘটে। একপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কর্ণফুলী থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম, অন্যপক্ষে রয়েছে কর্ণফুলী থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর বাদশা। উভয়পক্ষ পরস্পরকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে। শাসকদল আওয়ামী লীগের মধ্যে দুই পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন। যে কোন সময় আবারো বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকার বাসিন্দরা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট ২০২০ রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে কর্ণফুলী থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আহমদের ভাইপো সাহাবুদ্দিন, তার সহযোগী আমিন, মামুন, সাইফুল গং চরলক্ষ্যা লেরুর বাপের বাড়ির বাসিন্দা আলী আহমদ সওদাগরের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন কর্ণফুলী থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর বাদশাসহ এলাকার বেশ কিছু লোকজন। আলমগীর বাদশা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায় এবং সাহাবুদ্দিন ও তার সহযোগীদের শাস্তি দাবি জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয় কর্ণফুলী থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আহমদ এবং সন্ত্রাসী সাহাবুদ্দিনের সহযোগীরা। তারা আলমগীর বাদশাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

অভিযোগে প্রকাশ, গত ২৮ সেপেটম্বর সন্ধ্যায় আলমগীর বাদশার ছোট ভাই মোহাম্মদ শাহজাহান নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে মৌলবী বাজারে গেলে সন্ত্রাসী সাহাবুদ্দিন ও তার সহযোগীরা তাকে বেদম মারধর, মোটর সাইকেল ভাংচুর এবং বাজারের টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এ সময় কে বা কারা গুজব রটিয়ে দেয় যে, কর্ণফুলী থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর বাদশার ছোট ভাই মোহাম্মদ শাহজাহান নিহত হয়েছেন। মুর্হুতে হাজার হাজার মানুষ মৌলভী বাজার এলাকায় ছুটে যায় এবং সন্ত্রাসী সাহাবুদ্দিন এবং তার সহযোগী আমিন, মামুন, সাইফুল, ইমরানকে খুঁজতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে সবাই পালিয়ে গেলেও সাহাবুদ্দিনকে মদ্যপ অবস্থায় ধাওয়া করে আটক করতে সমর্থ হয় এবং গণ ধোলাই দেয়। এতে মারাত্বকভাবে আহত হন সাহাবুদ্দিন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে সাহাবুদ্দিনের হামলায় আহত মোহাম্মদ শাহজাহানও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে সাহাবুদ্দিনের লোকজন ফের হামলা করতে পারে এ আশঙ্কায় তাকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাহাবুদ্দিনের লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় মৌলভী বাজার, খোয়াজ নগর, চরলক্ষ্যায় মহড়া দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তারা প্রতিপক্ষের আত্বীয়-স্বজনদের মারধর করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় আনার নামে একজনকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। দায়ের করা মামলায় তার নাম নেই। আনারকে মারধর ও আটকের ঘটনায় পুরো কর্ণফুলী থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কর্ণফুলী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ঈসমাইল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় গণপিটুনিতে আহত সাহাবুদ্দিনের চাচা ইসলাম আহমেদ বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে আহত মোহাম্মদ শাহজাহানের পিতা হাজী ইদ্রিচ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন কপি পৌঁছায়নি বলে জানান ওসি।