ক্ষুদ্র কুটির শিল্প
Home » বিলুপ্তির পথে পটিয়ার ক্ষুদ্র কুটির শিল্প
বিশেষ সংবাদ বৃহত্তর চট্টগ্রাম সব খবর

বিলুপ্তির পথে পটিয়ার ক্ষুদ্র কুটির শিল্প

Spread the love

গিয়াস উদ্দিন (পটিয়া,চট্টগ্রাম):দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ক্ষুদ্র কুটির শিল্প বিলুপ্তির পথে। হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশের তৈরী বিভিন্ন সাংসারিক, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আদিবাসী সম্প্রদায়ের কারিগররা তাদের নিপুন হাতের মননশীলতার ছোঁয়ায় তৈরী করে থাকেন। গৃহস্থালী বাড়িতে ধান মাড়াই কাজে সহযোগিতায় কুলা, ডালা, সাংসারিক কাজে খৈচালা, মাছ শিকারের খলই সহ প্রভৃতি হস্তশিল্পীরা আমাদের প্রদান করে থাকেন। বিনিময়ে কিঞ্চিৎ অর্থ পেয়েই তারা খুশি। বাঁশ আর বেতকেই জীবিকার প্রধান বাহক হিসাবে আঁকড়ে রেখেছেন পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ভট্টাচার্য পাড়ার কিছু মানুষ।

এই বাঁশ আর বেতই বর্তমানে তাদের জীবিকার প্রধান বাহক। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন বাঁশ আর বেতের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা। জীবন জীবিকার তাগিদে তবুও বাবা-দাদার এই পেশাকে এখনও ধরে রেখেছে কিছু সংখ্যক পরিবার। ভট্টাচার্য পাড়ার সনাতনী সম্প্রদায় নামে পরিচিত বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের কদর আর তেমন নেই বললেই চলে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই শিল্পটি।

এক সময় গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থলি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করলেও, এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্পটি। আগেকারদিনে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে চিরচেনা সেই চিত্র। এরপরেও পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ভট্টাচার্য পাড়ার সনাতনী সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের পরিবারের মানুষ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। বর্তমানে স্বল্প দামে হাতের নাগালে প্লাস্টিক সামগ্রী পাওয়ায় কুটির শিল্পের চাহিদা আর তেমন নেই। তাছাড়াও দ্রব্যমূল্যের বাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ ও বেত। এখন আর আগের মতো বাড়ির আশেপাশে বাঁশ ও বেত গাছ রাখছে না কেউ। সেগুলো কেটে বিভিন্ন চাষাবাদসহ দালান তৈরি করছে মানুষ। তাই কাঁচামাল আর আগের মতো সহজেই পাওয়া যায় না।

দেখতে নজর কাড়া হওয়ায় প্লাস্টিক ও অন্যান্য দ্রব্যের পণ্য টেকসই ও স্বল্পমূল্যে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চোখ এখন সেগুলোর দিকে। তবে এখনো গ্রামীণ উৎসব ও মেলাগুলোতে বাঁশ ও বেতের তৈরি খোল, চাটাই, খোলই, ধামা, টোনা, পালল্টা, মোড়া, দোলনা, বুক সেল্ফ কদাচিৎ চোখে পড়ে।

পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ভট্টাচার্য পাড়ার রঞ্জিত দাশের স্ত্রী রিটু দাশ বলেন, বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়ি আশার পরথেকেই এ শিল্পকে ধরে রেখেছি। বাপ-দাদাদের রেখে যাওয়া বেত শিল্পের দুর্দিনেও তারা হাতে গোনা কিছু সংখ্যক পরিবার বাঁশ-বেতশিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছেন। অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় গেলেও পূর্ব পুরুষের হাতেখড়ি এই পেশাকে কিছুতেই ছাড়তে পারেননি তারা।

হস্ত ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের কারিগর স্বপন দাশ বলেন, খোঁড়া পা নিয়ে কি আর করবো, অন্য কিছু তো করতে পারিনা, তাই বাপ-দাদার করা এ শিল্পকে আঁকড়ে ধরেছি। দেখা যায়, স্বপন দাশের সাথে তার ছোট ছোট তিন মেয়েও কুটির শিল্পের কাজ করছেন। তারা এ বয়সেই তার বাবার মতই নিখুঁত ভাবেই কুটির শিল্পের কাজ বুনে যাচ্ছে। তাদের নাম জিজ্ঞাসা করতেই চটপটে মেয়ে গুলো বলে পূজা, রাধীকা ও নিরঝরা।

বিএনএ/এসজিএন