রেলওয়ের বরাদ্দকৃত জমি
Home » রেলের জমি ও বাসা নিয়ে শ্রমিক নেতারা যা বললেন, শুনলে অবাক হবেন
টপ ফোর সংগঠন সংবাদ সব খবর

রেলের জমি ও বাসা নিয়ে শ্রমিক নেতারা যা বললেন, শুনলে অবাক হবেন

বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা না করে রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনীর বরাদ্দকৃত কর্মচারীদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে সোমবার(২৩ নভেম্বর) সকালে সিআরবি সাত রাস্তা মোড়ে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধনে রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনীবাসী সহ বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিকলীগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল, বাংলাশে রেলওয়ে এমপ্লয়ীজকলীগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে কারিগর পরিষদ, বাংলাদেশ রেলওয়ে জাতীয় শ্রমিক পার্টি, বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিকজোট, শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবাশ্রম, রেলওয়ে মেডিকেল এসেসিয়েশন, শ্রী শ্রী রাঁধাকৃষ্ণ নিতাইগৌর বন্ধুকুঞ্জ আশ্রম, শুকতারা রেলওয়ে মুক্ত মহা স্কাউট ল, সৃজনী সংস্থা ও সৃজনী মুক্ত রোভার দল , তুলাতুলী বাসীসহ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন।
No description available.

শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন,  সিআরবি আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের সদর প্তর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এটি পূর্বাঞ্চলীয় সর প্তর। এই ধরনের জাতীয় গুরুত্বপুর্ন সরকারী সর দপ্তরের কাছাকাছি বেসরকারী প্রাইভেট হাসপাতাল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করবে। রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনীতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর, শহীদ মিনার সহ অনেক পুরোনো মসজিদ ও মন্দির রয়েছে। এসব বাসা থেকে বিদ্যুত বিল ও বাসাভাড়া বাবদ নিয়মিত বেতন বিল থেকে বিশাল অংকের রাজস্ব প্রতিবছর সরকারী কোষাগারে জমা হয়, যা প্রতিবছর বৃদ্ধি পায়। এসব বৈধ বসবাসকারী কর্মচারীদের থেকে প্রাপ্য অর্থ ক্রমবর্ধমান হিসাবে ৪০ বছরের হিসাব করলে প্রকল্প থেকে প্রাপ্য অর্থ থেকে কোন অংশে কম হবে বলে মনে হয়না।

নেতারা অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক পরিত্যক্ত জায়গা চট্টগ্রামেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। চট্টগ্রামস্থ কুমিরা রেলওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি অনেক আগেই পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা। তাছাড়া মতিঝর্না এলাকায় অবৈধভাবে খল করা রেলওয়ের জায়গাটি মহামান্য আালত কর্তৃক রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের জায়গা হিসাবে রায় দিয়েছেন, যা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও দখল নিতে পারেনি। রেলওয়ের বিশাল অব্যবহৃত জায়গা থাকা সত্বেও সিআরবিস্থ রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনীকে উচ্ছে করে পরিত্যক্ত দেখিয়ে প্রাইভেট হাসপাতাল করার প্রচেষ্টা রেলওয়ে কর্মচারীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

পরিত্যক্ত বাসার পেছনে বছরে কেন কোটি টাকা খরচ ?  

পরিত্যক্ত বাসা মাদকের আস্তানা! 

ইতোপূর্বে রেলওয়ের বরাদ্দকৃত জমিতে ইমপেরিয়াল হাসপাতাল, ইউএসটিসি, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিকস হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল সহ বহু প্রাইভেট সংস্থা গড়ে উঠলেও এতে রেলওয়ে কর্মচারীদের কোন স্বার্থ রক্ষা হয়নি। তাছাড়া সৌন্দর্যময় ফয়সলেক এলাকায় কনকর্ড প্রতিষ্ঠানের সাথে ফয়জলেক ভ্রমন পাসের চুক্তি বাস্তাবায়ন হলেও আজ রেলওয়ে কর্মচারীরা সুবিধা পাস বঞ্চিত। বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস অযোগ্য পরিত্যক্ত বাসা রয়েছে। এসব পরিত্যক্ত বাসার পিছনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ , গ্যাস ও পানির জন্য প্রতিবছর কোটি টাকার উপর লোকসান হচ্ছে অথচ কোন রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। তদুপরি বাসাসমূহ নানা বখাটে আর সন্ত্রাসীদের মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত। এসব স্থানেও প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটির স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব। রেলওয়ে পরিত্যক্ত স্থানে এই হাসপাতালের স্থান নির্ধারণ করে রেলওয়ে কর্মচারীদের বাসস্থান রক্ষা করতে উক্ত প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পূণঃ নির্ধারন করার বিষয়ে পূনরায় বিবেচনা করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট নেতারা আবেদন জানান।

উক্ত মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিকলীগের কার্যকরী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোঃ লোকমান হোসেন, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর, বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোখলেচুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী লের সাধারন সম্পাক এম আর মনজু, বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজলীগের সভাপতি আনোয়ারুল হক হনি, বাংলাদেশ রেলওয়ে কারিগর পরিষদের সাধারন সম্পাদক এস কে বারী, বাংলাদেশ রেলওয়ে জাতীয় শ্রমিক পার্টি সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান পিন্টু, বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাধারন সম্পাদক মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিকজোটের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফারুকী, শ্রমিকলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মামুন ও রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনী বাসীর পক্ষে শান্তনু দাশ, ফুলিনা চৌধুরী, পরিমল, জিয়া উদ্দিন, আশরাুল, এনায়েত হক, রাজু ঘোষ, শয়ন ঘোষ, আশীষ সহ আরো অনেকে। প্রেস রিলিজ।