সমবায় মন্ত্রী
Home » চট্টগ্রাম পর্যটন খাত দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিবে-সমবায় মন্ত্রী
এক নজরে চট্টগ্রাম টপ ফোর সব খবর সরকার-প্রশাসন-মন্ত্রী

চট্টগ্রাম পর্যটন খাত দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিবে-সমবায় মন্ত্রী

Spread the love

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম  বলেছেন,চট্টগ্রাম দৃষ্টি নন্দন শহর হবে। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সকল সুযোগ এই নগরীতে রয়েছে। আউটার রিং রোড, কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়ক করতে পারলে হাজার হাজার পাঁচ তারকা হোটেল হবে। এরজন্য রকেট সাইয়েন্সের দরকার হবে না। শুধু চট্টগ্রাম পর্যটন খাত দিয়ে পুরো দেশকে এগিয়ে নিবে। তবে অবকাঠামো যাতে আগামী দিনের দূর্ভাগ্য ডেকে না আনে সেব্যাপারে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কর্ণফুলি নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, দখল ও দূষণ এবং রোধে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের বাস্তবায়ন,চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সংকট রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেখছে। বিশেষ করে কর্পোরেশন চলে জনসাধারণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্সের অর্থে। জনগণ যদি তাদের ট্যাক্স সঠিক সময়ে পরিশোধ করেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি তাদের ট্যাক্স নিয়মিত প্রদান করতেন তাহলে এই আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতো।

তিনি বলেন,  ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে পঞ্চবার্ষিকী কর মূল্যায়নে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক কর ১৬০ কোটি ১৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা ধার্য্য করা হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে বার্ষিক কর দেয় মাত্র ৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যেখানে চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ৩ হাজার ২শ কোটি টাকা আয় করে সেখানে চসিকের ধার্যকৃত ট্যাক্স কেন দেবে না। এই বিষয়টির যাতে সুরাহা হয় সেজন্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে।

তাজুল ইসলাম  বলেন, জলাবদ্ধতা, জোয়ারের পানি থেকে চট্টগ্রাম নগরকে রক্ষা করার জন্য সিটি আউটার রিং রোডের কোন বিকল্প নেই। সিডিএ তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটির কাজ চলছে। চট্টগ্রাম মহানগর রক্ষাকারী বিদ্যমান উপকূলীয় বাঁধের উপর ৪ লেইন বিশিষ্ট ১৫ কি.মি. দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। বাঁধের বিদ্যমান উচ্চতা ২০-২৩ ফুট হতে ৩০-৩৩ ফুট পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড হতে বায়েজিদ বোস্তামী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজও শেষের পথে। এসড়ক নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম শহরের যানযট অনেকাংশে নিরসন হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের শহরের প্রবেশ মুখেও অসহনীয় যানজট থেকে চট্টগ্রামবাসী মুক্তি পাবে। চট্টগ্রাম শহরের মানুষের প্রধান দু:খ জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের পানি। বিষয়টি নিয়ে সরকার সর্বদা সচেষ্ট। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন,খাল সম্প্রসারণ ও সংস্কার নিয়ে এরই মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটির কাজ দ্রুত এগুচ্ছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৩৬ টি খাল হতে কাঁদা ও মাটি অপসারণ করা হয়েছে। ৩৬ টি খাল উদ্ধারের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চলছে। ৩ হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ২৮ টি খালের পাড়ে ৩৫ কি.মি. রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। সিডিএ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চলমান এই প্রকল্পের কাজ করেনাকালেও বন্ধ হয়নি।

তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফূলী নদী রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান দিয়ে বলেন, এই কর্ণফুলীর ৮০ কি.মি. স্থান জুড়ে অন্তত ৩ শটি কারখানা কিংবা শিল্প স্থাপনা রয়েছে। এসব কারখানা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে কারখানার বর্জ্য নদীতে চলে আসার আশংকা রয়েছে। পেপার মিল, তেল শোধনাগার, পাওয়ার প্লান্ট, ট্যানারী, সার প্রস্তুত কারক, সাবান এবং সিমেন্ট তৈরির কারখানা এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব কারখানার তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি)আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে। থাকলেও এগুলোর ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও যাচাই বাছাই করা হবে। কর্ণফুলী রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এই নগরীর মাস্টারপ্ল্যান করা হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার প্রুতিশ্রুতি অনুযায়ী চট্টগ্রামের ৪১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রায় সবকটিতে ওয়াসার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করছে। দৈনিক ৪২ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে চট্টগ্রাম ওয়াসা এখন ৩৭ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দিচ্ছে। চট্টগ্রামে আবাসিক গ্রাহকরা ১ হাজার লিটার প্রতি  পানির জন্য দাম দিচ্ছেন মাত্র ১২ টাকা ৪০ পয়সা, ঢাকায় যেটি ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা। নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও চট্টগ্রাম ওয়াসা চট্টগ্রামের ৪শ কি.মি. এলাকা নতুন সংযোগের আওতায় এনেছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা যে প্রকল্পগুলো বাস্তবাবায়ন চলছে এসব সম্পন্ন হলে পানি ও পয়:নিস্কাশনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম একটি আধুনিক নগরে পরিণত হবে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে চট্টগ্রামের উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সে-সকল প্রতিশ্রুতি পূরণে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্প উপহার দিয়েছেন। এই প্রকল্পগুলো এখন বাস্তবায়নাধীন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সমাপ্তির পথে। সর্বোপরি চট্টগ্রামের সবগুলো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যাণ প্রণয়নের বিষয়টি সরকারের নজরে আছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের ব্যাপারে আন্তরিক। তাই এত উন্নয়ন প্রকল্প ও টাকা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরো দেবেন। যদি কাজে লাগাতে পারি। আগে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলতেন সিটি কর্পোরেশনকে আয়বর্ধক করতে হবে। তিনি করেও গিয়েছিলেন কিন্তু তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এখন সরকার সিটি কর্পোরেশনকে সহায়তা দিচ্ছে।

সভায় পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম নিয়ে মন্ত্রণালয়ের যে সকল প্রকল্প রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের পথে। তবে কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। পর্যায়ক্রমে এই প্রতিন্ধকতা দূর করা হবে। ওয়াসার বিদ্যমান প্রকল্পে সুয়ারেজ সিস্টেম যেন কর্ণফুলী নদী মুখী না হয়, তাহলে এই নদী দূষণ থেকে রক্ষা পাবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমদ বলেন, চট্টগ্রামে যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হচ্ছে তা প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতারই বহি:প্রকাশ। এগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমেই সম্পাদন করতে হবে। তা নাহলে এর সুফল থেকে নগরবাসী বঞ্চিত হবে।

সমন্বয় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়াসিকা আয়েশা খানম এমপি, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, পানি উন্নয়ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।  বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক  মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন,  সিডিএ চেয়ারম্যান এম.জহিরুল আলম দোভাষ, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল শেখ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ আহমদ তানভীর, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তাহেরা ফেরদৌস ও চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একে এম ফজলুল্লাহ।

সূত্র: বিএনএনিউজ