পেঁয়াজ
Home » পর্যান্ত মজুদ শর্তেও দাম বাড়ছে পেঁয়াজের
অর্থনীতি জাতীয় টপ ফোর

পর্যান্ত মজুদ শর্তেও দাম বাড়ছে পেঁয়াজের

Spread the love

ঢাকা: কয়েকদিন ধরেই আলোচনায় নিত্য প্রয়োজনীয় মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজ। ভারতের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কোন ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশে রফতানি বন্ধ করেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি আমদানীকারকরা। এলসি লাইসেন্সের বিপরীতেও পেঁয়াজ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আমদানীকারকরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। পাশাপাশি তুরস্ক থেকে ১ লাখ টন পেঁয়াজ আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। একইসঙ্গে টিসিবির ট্রাকসেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এই পেঁয়াজ জাহাজে করে দেশে আনবেন বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা। এছাড়া পেঁয়াজ আমদানির ওপর আরোপিত পাঁচ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআরকে) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

তবে ভারতের এমন সিদ্ধান্তের পর পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা দাবি করেন, গত বছরের অভিজ্ঞতায় সরকারের আরও আগে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিলো।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পেঁয়াজ আমদানি করতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যেসব এলসি খোলা হয়েছিলও, সেগুলোর বিপরীতেও পেঁয়াজ দেওয়া হবে না।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, সোমবার ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের পর দেশের বাজারে হু হু করে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। এরই মধ্যে ৩৮ টাকা দরের ভারতীয় পেঁয়াজ ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশির বেশিরভাগ পেঁয়াজ আমদানি হয় হিলি বন্দর দিয়ে সেখানেও গতকাল থেকে কোন পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। তবে ভারতীয় প্রান্তে আটকে আছে বেশকিছু পেঁয়াজবাহী ট্রাক। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের হঠাৎ সিদ্ধান্তের কারণে বিপাকে পড়েছে ট্রাকের চালক।

হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কমিয়ে দেয় ভারত। এরই মধ্যে সর্বশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। প্রতি টন পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য ১৫০-২৫০ এর মধ্যে থাকলেও তা বাড়িয়ে করা হয় ৩০০-৪২০ ডলার।

পরিমাণে কম হলেও তবু দেশের অন্যতম পেঁয়াজ আমদানি করা বন্দর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসছিল। চলতি মাসের শুরুর দিকেও যেখানে প্রতিদিন ৪৫-৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি করা হতো, সেখানে দাম বৃদ্ধির পর পেঁয়াজ আসছিল ১৮ থেকে ২২ ট্রাক।

উল্লেখ্য, গত বছর ভারত পেঁয়াজ বন্ধ করায় দেশের বাজারে দাম এক লাফে ৩০০ টাকায় দাঁড়ায়।

বিএনএ/এমএইচ