দেহরক্ষীর সঙ্গে প্রিন্সেস হায়ার প্রেম এখন ওপেন সিক্রেট
Home » দেহরক্ষীকে প্রিন্সেস হায়ার যে কারণে দিতেন দামি দামি উপহার
এক নজরে প্রবাস সব খবর

দেহরক্ষীকে প্রিন্সেস হায়ার যে কারণে দিতেন দামি দামি উপহার

দেহরক্ষীর সঙ্গে প্রিন্সেস হায়ার প্রেম এখন ওপেন সিক্রেট।শত শত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ৭০ বছর বয়স্ক দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট এখন হঠাৎ করেই শিরোনামে এসেছেন ব্রিটিশ হাইকোর্টের এক রায়ের জন্য।

ব্রিটিশ হাইকোর্ট রায়ে বলেছে, শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম তার দুই কন্যাকে অপহরণ করে জোর করে তাদের ব্রিটেন থেকে দুবাইতে নিয়ে গেছেন, এবং তার সাবেক স্ত্রী প্রিন্সেস হায়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভীতিপ্রদর্শন করে চলেছেন।

হাইকোর্টের এই রায়ের মধ্যে দিয়ে যে সব ঘটনা এখন জনসমক্ষে বেরিয়ে এসেছে তা প্রায় হলিউডের সিনেমার কাহিনির মতো।

৮ মাস আগে শেখ মোহাম্মদের ষষ্ঠ স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বি‌ন্‌ত আল-হুসেইন এক ‘হাই-প্রোফাইল’ মামলা করেছিলেন লন্ডনে – তার স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণ, জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে নেয়া, নির্যাতন এবং ভীতিপ্রদর্শনের অভিযোগ তুলে।

এর পর হাইকোর্ট একটি ফ্যাক্টফাইন্ডিং জাজমেন্ট বা এফসিজে প্রকাশ করেছে – যাতে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

দুবাইয়ের শাসক চেষ্টা করেছিলেন এই রায় যেন প্রকাশ্যে না আসে। কিন্তু তার আপিল গৃহীত হয় নি।

 ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি নিজেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে জার্মানি হয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান।

শেখ মোহাম্মদের ষষ্ঠ এবং ‘জুনিয়র’ স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া জর্ডানের প্রয়াত বাদশা হুসেইনের মেয়ে এবং বর্তমান বাদশা আবদুল্লাহর সৎবোন।
রানির সঙ্গে ২ বছরের তুমুল যৌন সম্পর্ক! গোপনীয়তা রক্ষা করতে গিয়েই কোটিপতি দেহরক্ষী

জানা গেছে, প্রিন্সেস হায়ার একজন দেহরক্ষীর সাথে বিবাহবহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

মামলায় বলা হয় প্রিন্সেস হায়াকে দুবাই এবং লন্ডনে বহুবার হুমকি দেয়া হয়, এবং তিনি এখন জীবনের ঝুঁকির মধ্যে বাস করছেন।

হুমকি হিসেবে দুবার তার বালিশের ওপর পিস্তল রেখে দেয়া হয়েছিল, এবং আরেকবার তাকে ধরে নিয়ে যাবার কথা বলে বাড়ির সামনে হেলিকপ্টার নামানো হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি

খোদ রাজাই তো কখনও ৫ হাজার ইউরো, কখনও বা আবার ১৫ হাজার ইউরো স্রেফ বখশিস হিসেবে দিয়ে থাকেন দেহরক্ষীদের! কিন্তু রানি যে পরিমাণ অর্থব্যয় করেছেন তাঁর দেহরক্ষীর জন্য, তার নজির কোথাও নেই, দাবি করেছেন রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কযুক্ত এক ব্যক্তি! এই জায়গায় এসে এ বার খুব স্বাভাবিক ভাবেই রাজপরিবারের ইতিবৃত্তে প্রবেশ করতে হয়। খবর বলছে যে এই রাজাই হলেন দুবাইয়ে বর্তমান শাসক, তাঁর নাম শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম।

তাঁর ষষ্ঠতমা পত্নী, রানি হায়ার এ হেন আচরণই আপাতত সংবাদমাধ্যমের শিরোনামের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর বলছে যে ৪৬ বছরের রানি হায়ার সঙ্গে তাঁর ৩৭ বছরের দেহরক্ষী রাসেল ফ্লাওয়ার্সের ছিল বছর দুইয়ের শারীরিক সম্পর্ক। যে সম্পর্ক গোপন রাখার জন্য রাসেলকে অকাতরে নগদ টাকা এবং একাধিক মূল্যবান উপহার বিলিয়ে গিয়েছেন হায়া! তা, ঠিক কী কী মূল্যবান উপহার রাসেল পেয়েছেন তাঁর মালকিনের কাছ থেকে?

মেইল অনলাইনের খবরে বলা হয়, হায়া রাসেলকে দিয়েছেন ১.২ মিলিয়ন ইউরো। এ ছাড়া মূল্যবান উপহারের তালিকায় আছে এক ভিন্টেজ শটগান, অপূর্ব কারুকাজ করা সিগার রাখার এক হিউমিডর যার মধ্যে থাকা সিগারেরই মূল্য শুধু কয়েক হাজার পাউন্ড! দেহরক্ষীর জন্য বিশেষ ভাবে টাকা খরচ করে গাড়ির নেমপ্লেটও বানিয়ে দিয়েছিলেন হায়া, তাতে সৌভাগ্যসূচক সংখ্যা বসিয়ে লেখা ছিল- RU55ELLS! এ ছাড়া ফ্লাওয়ার্স পরিবারের বিশেষ চিহ্নখচিত এক চুনিবসানো আংটিও হায়া উপহার দিয়েছিলেন রাসেলকে। রাসেল এই সব উপহার, নগদ এবং রানির প্রেমে সন্তুষ্ট থাকলেও তাঁর স্ত্রী খুব স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপারটা সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেননি।

বিবাহবিচ্ছেদের সময়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে এই সব প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর ৩৭ বছরের স্বামীকে যৌনতায় বাধ্য করেছিলেন ৪৭ বছরের রানি হায়া!

রানি হায়ার এবং শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুমের বিবাহবিচ্ছেদের মামলা যখন লন্ডন হাই কোর্টে ওঠে, তখন সন্তানদের কাস্টডি নিয়ে টানাপোড়েন চলার সময়েই এই গোপন সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে!