অ্যাটর্নি জেনারেল
Home » কে হচ্ছেন পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল
আইন-আদালত এক নজরে জাতীয় টপ ফোর বিশেষ সংবাদ সব খবর

কে হচ্ছেন পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল

Spread the love

প্রায় এক যুগ অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদটি এখন শূন্য। এ অবস্থায় আইন অঙ্গনের সর্বস্তরে আলোচনায় কে আসছেন ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেলের আসনে?

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহবুবে আলমের মৃত্যুর পর অ্যাটর্নি জেনারেল পদে সুপ্রিম কোর্টের বেশ কজন সিনিয়র আইনজীবীর নাম, এই অঙ্গনে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এবং উচ্চমহলে তাদের যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনায় আসছে। অবশ্য এমন কেউ পদটিতে বসবেন, নাকি সরকারের শীর্ষ মহলের পছন্দে এ পদে কেউ নিয়োগ পাবেন তা নিয়েও চলছে গুঞ্জন।

অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবিধানিক পদ। ‘দ্য বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স অর্ডার-১৯৭২-এর ৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ পদে নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। যিনি এই পদে আসীন হবেন, তার নাম আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব আকারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবে। সেখান থেকে ওই প্রস্তাব যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে। রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেলের নাম চ‚ড়ান্ত করলে নিয়োগ-সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ হবে।

অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি ১১ বছর ৮ মাস ১৪ দিন এ দায়িত্ব সামলান। তার মৃত্যুর পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের কাজটি স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। তিনি ছাড়াও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও নতুন নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনির দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ৬৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৫১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অ্যাটর্নি জেনারেল পদে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্য থেকেই সরকার একজনকে বেছে নিতে পারে। অবশ্য এর বাইরে থেকেও যোগ্যতা অনুযায়ী কাউকে বাছাই করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কে বেশি দক্ষ, কার বেশি বিচক্ষণতা এবং আইনজীবীদের মধ্যে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি রয়েছে, সেটা বিবেচনায় থাকতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রায় ১২ বছর দায়িত্বে ছিলেন। এ পদে নতুন কে নিয়োগ পাবেন এখনই বলতে পারছি না। তবে ধৈর্য ধরে একটু অপেক্ষা করতে হবে। তারপর দেখি কী হয়।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘আমি মনে করি শিগগিরই অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়া হবে। রাষ্ট্রপতি এই পদে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবে। তারপর রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। দেখা যাক সরকার কাকে নিয়োগ দেয়। তবে কাজ তো পড়ে নেই। অটোম্যাটিকলি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা তার দায়িত্ব পালনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নেবে। ওয়েট অ্যান্ড সি।’

অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আসীন হতে পারেন এমন বেশ কজন আইনজীবীর নাম বেশ জোরেশোরে আলোচনায় আসছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনির।

এছাড়া একজন নারী আইনজীবীর নামও সামনে আসছে। তার নাম ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দখলে থাকা সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতৃত্ব ছিনিয়ে নিয়ে অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন পরপর দুবার সভাপতি হয়েছেন। ফলে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তাকে অনেকেই দেখতে চান।

অনেকের অভিমত হলো, অ্যাটর্নি জেনারেল হতে হলে মেধাবী ও দক্ষ আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি অবশ্যই তার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা থাকতে হবে। বার বে অর্থাৎ বিচারপতি ও আইনজীবীদের মধ্যে একটা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে মামলা পরিচালনায়ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পান এম এইচ খন্দকার। এরপর ধারাবাহিকভাবে এ পদে দায়িত্ব পালন করেন ফকির শাহাবুদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, মোস্তফা কামাল, মো. নুরুল্লাহ, ব্যারিস্টার রফিক উল হক, অ্যাডভোকেট আমিনুল হক, মো. নুরুল্লাহ (দ্বিতীয় মেয়াদে), কাজী শাহিদুন্নবী (কে এস নবী), মাহমুদুল ইসলাম, আবু ফয়েজ (এএফ) হাসান আরিফ, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার ফিদা এম. কামাল, সালাহউদ্দিন আহমেদ।

সর্বশেষ অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ২০০৯ সালে দায়িত্ব নিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তা পালন করেন।

সূত্র: বিএনএনিউজ