প্রদীপসহ তিন আসামি ফের রিমাণ্ডে
Home » চট্টগ্রাম আদালতে প্রদীপসহ ১৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
আইন-আদালত এক নজরে টপ ফোর বৃহত্তর চট্টগ্রাম ব্রেকিং নিউজ সব খবর

চট্টগ্রাম আদালতে প্রদীপসহ ১৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

বিএনএ,চট্টগ্রাম: সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমতে শুরু করেছে।

এবার চট্টগ্রাম আদালতে প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুইভাইকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতদের বোন জিনাত সুলতানা শাহীন।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের আইনি সহায়তায় তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান। তিনি জানান, চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ফারুক ও আজাদ নামের দুই ভাইকে চন্দনাইশ থানা পুলিশের সহায়তায় বাড়ি থেকে নিয়ে যান টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। এসময় তাদের পরিবারের কাছে আট লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় টেকনাফে দুই ভাইকে হত্যা করা হয়।

এঘটনায় তাদের বোন আজ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে আনোয়ারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ওই দুই ভাইয়ের নাম ফারুক ও আজাদ। এর মধ্যে ফারুক বড়। গত ১৩ জুলাই মুঠোফোনে ছোট ভাই আজাদকে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। ১৪ তারিখ বিজিসি ট্রাস্টের সামনে থেকে বড় ভাইকেও নিয়ে যায়। সিটিটিভির ফুটেজে দেখা যায় বড় ভাই ফারুককে লালশার্ট পরা চন্দনাইশ থানার এসআই আরিফ তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। সাথে ছিলেন ওসি তদন্ত মজনুসহ ৫ থেকে ৬ জন। তাদের তৎকালীন ওসি প্রদীপের হাতে তুলে দেয়া হয়। এরপর তাদের পরিবারের কাছে আট লাখ টাকা দাবি করেন টেকনাফ থানার পুলিশ। টাকা না দেয়ায় ১৬ জুলাই টেকনাফে দুই ভাই নিহত হয়েছেন বলে জানতে পারে তাদের পরিবার। এর আগের রমজানে বাহরাইন থেকে দেশে ফেরেন আজাদ। তিনি গত ৬ বছর ধরে ওই দেশে ছিলেন। আর বড় ভাই ফারুক পেয়ারা ব্যবসায়ী ছিলেন।

এদিকে, হদিস মিলছে না ওসি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি কারণের। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলা দায়েরের পর আত্নগোপনে চলে গেছেন তিনি। কেউ কেউ বলছেন তিনি ইতোমধ্যে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন। এমন ধারণা দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তার।

ধারণা থেকে চুমকি কারণের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন বলে জানান দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।

রিয়াজ উদ্দিন গত ২৩ আগস্ট চুমকি কারণ ও তার স্বামী ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২)/২৭(১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২), ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা সহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সূত্র: বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি(বিএনএ)/নিউজবিএনএ

Source: Bangladesh News Agency(Bna)/Bnanews