এসি
Home » আরামের এসি আনছে বিপদ
এক নজরে টপ ফোর লাইফ স্টাইল

আরামের এসি আনছে বিপদ

Spread the love

বাসাবাড়ি থেকে অফিস বা বিপণিবিতানে গরম থেকে স্বস্তির জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা যখন ক্রমশ বেড়েই চলেছে, তখন ঘর শীতল করার এই যন্ত্রের মাধ্যমে আশপাশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সার্বিক পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এসি ঘরকে ঠাণ্ডা করলেও বাইরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বিপুল সংখ্যক এসির ব্যবহার পুরো এলাকার গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া এসি থেকে নির্গত গ্যাস পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এক সময় এয়ার কন্ডিশনার বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বিলাসিতা হলেও এখন উচ্চ মধ্যবিত্তের ঘরেও এ যন্ত্র অনেকটা ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছে। গরম পড়তে না পড়তেই এসি ও কুলার কেনার হিড়িক দেখা যায় রাজধানীতে। শীতাতপ সুবিধা ছাড়া শহরে গাড়ি, দোকান, সিনেমা হল, হোটেল, রেস্তোরাঁ এখন কল্পনাই করা যায় না। রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, ‘এসি ব্যবহার করাটা দরকার, তাই ব্যবহার করি। এটা যে পরিবেশের জন্য কেন ক্ষতিকর, তা জানা নাই।’

এসি ঘরকে শীতল করলেও বাইরের বাতাসকে কী করে গরম করে তুলছে, তা ব্যাখ্যা দিলেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের স্বতঃস্ফ‚র্ত ব্যবহার তিনভাবে পরিবেশের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে; প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ এবং এসির বাইপ্রোডাক্টের মাধ্যমে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা ইপিএ বলছে, নব্বইয়ের দশকে দেশটিতে সিএফসির ব্যবহার বন্ধ হয়। এখন তারা হাইড্রোক্লোরোফ্লুরোকার্বন (এইচসিএফসি) বন্ধের পর্যায়ে রয়েছে।

ওজোন স্তরের সুরক্ষায় ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিয়ল প্রটোকল নামে আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়। এতে শিল্পায়নের কারণে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সিএফসি ও এইচসিএফসির মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক গ্যাসের ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত রয়েছে।

শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে রাতেও তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণ হিসেবে এসিকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘যেখানে দিনের চেয়ে রাতের তাপমাত্রা কম থাকার কথা, রাতের বেলা এসি ব্যবহারের কারণে আরবান হিট আইল্যান্ডের প্রভাবে সেসব এলাকায় রাতেও তাপমাত্রা বেশি থাকে।’

বিএনএ/ এআরআই/ এমএইচ