মিজানুর রহমান মজুমদার
Home » মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন সুলতান আহমদ মজুমদার : বিএনএ সম্পাদক
টপ ফোর বৃহত্তর চট্টগ্রাম ব্রেকিং নিউজ সব খবর স্পন্সর নিউজ

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন সুলতান আহমদ মজুমদার : বিএনএ সম্পাদক

চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) সম্পাদক মিজানুর রহমান মজুমদার বলেছেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন সুলতান আহমদ মজুমদার। স্বাধীনতাত্তোর ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে  বৃহত্তর নোয়াখালী  (বর্তমানে ফেনী ) জেলার ছাগলনাইয়া থানা (ফুলগাজীসহ) আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন তিনি। তার বাড়িতেই মুক্তিযোদ্ধারা বাঙ্কার ক্যাম্প স্থাপন করেন। বাড়ির চার পাশ ও পুকুরপাড়ে ২৯টি বাঙ্কার খনন করে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদে যুদ্ধ করার ব্যবস্থা করেন। তৎকালীন ইপিআর, আনসার ও অন্যান্য সামরিক বাহিনীর সদস্য ও অন্যান্য শ্রেণি পেশার সমন্বয়ে গঠিত ৩৬০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি টিম সেখানে অবস্থান করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার পাশাপাশি অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিতে থাকেন।

শনিবার ( ১২ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে “ আলহাজ্ব সুলতান আহম্মেদ মিলনায়তন” উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।এরআগে বিএনএ সম্পাদক মিজানুর রহমান মজুমদারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস।

বিএনএ সম্পাদক বলেন, স্থানীয় রাজাকাররা পাক বাহিনীকে জানিয়ে দেয় তাঁর কথা। এরপর থেকে  তৎকালীন আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রভাবশালী এ নেতা  ও তার পরিবারের ওপর নেমে আসে পাক বাহিনী ও রাজাকার-আলবদরদের নির্মম নির্যাতন। তাকে হত্যা করার জন্য কয়েক দফা প্রকাশ্যে ও গোপনে অভিযান চালানো হয়। এ অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে সীমান্তের ওপারে চলে যায় সুলতান আহমদ। পরে নিজে ও তার বড় সন্তানরা  মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও তাদের সহায়তা করতে থাকে। সীমান্তের ওপারে ভারতে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে যে সমস্ত কমিটি গড়ে উঠেছিল এরূপ অনেকগুলো কমিটিতে সক্রিয় ভাবে কাজ করেছেন তিনি। এপ্রিল মাসের শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানীরা বিলোনিয়া দখলের জন্য সুলতান আহমেদ সাহেব এর বাড়ির সন্নিকটে মির্জার বাজার পর্যন্ত আসে।  তখন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ প্রচন্ড গোলাগুলির পর তারা ছাগলনাইয়া ফেরত যায়। পরবর্তীতে ৬ জুন পাকিস্তানিরা সংগঠিত হয়ে অনেক সৈন্য নিয়ে বিলোনিয়া দখলের উদ্দেশ্যে আবার মির্জার বাজার অতিক্রম করলে সুলতান আহমেদ মজুমদার এর বাড়ি থেকে মুক্তি যোদ্ধারা গুলি ছুড়ে বাধা সৃষ্টি করে।  সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তীব্র যুদ্ধ হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানী বাহিনী পিছু হটে।  ৬ জুনের পর থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত থেমে থেমে প্রায় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।

তিনি বলেন, ১৯ জুন মুক্তিবাহিনীর উপরের কমান্ড (তৎকালীন ক্যাপ্টেন ওলি আহমেদ)  থেকে নির্দেশ আসায় মুক্তিফৌজ এখান থেকে প্রত্যাহার করে ২ কিলোমিটার উত্তরে চাঁদগাজীতে গিয়ে অবস্থান নেয়।  তার পরেও ভারত থেকে এসে গেরিলা যোদ্ধারা অবস্থান নিত তার বাড়িতে । পাকিস্তানীরা কাপ্টেন লিংক রোড দিয়ে চলাচলের সময় গেরিলা যোদ্ধারা তাদের উপর গুলি চালাত। এভাবে প্রতিনিয়ত গেরিলা যুদ্ধ হত। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পাকিস্তানী বাহিনী ও রাজাকারা। ১৯৭১ সালের ১৪ আগষ্ট  পাকিস্থানের  স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে  ছাগলনাইয়া থানা সদরে রাজাকার ও পাক বাহিনী এক সমাবেশ হয়। সেখান থেকে পরিকল্পনা হয়  সুলতান আহমদকে হত্যা ও তার বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার। ওইদিন দুপুরের দিকে  রাজাকারদের  একটি দল তার বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। জ্বালিয়ে দেয় পুরো বাড়ি।  তারা   সুলতান আহমদ মজুমদারকে বাড়িতে খুঁজে পায়নি। ইতিমধ্যে তার এক চাচাতো ভাই আব্দুর রশীদকে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমদ মজুমদার  কয়েক সহযোগিকে নিয়ে বিলনিয়া সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতা করে এলাকাটি শত্রু মুক্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন।  ২রা ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল  ত্রিপুরা সীমান্তের নলুয়া ও জয়পুর দিয়ে ও বিলনিয়া থেকে আসা যৌথবাহিনী অপারেশন চালায়। ২ ডিসেম্বর উত্তর যশপুর ও আশপাশের গ্রাম দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের যৌথবাহিনী এগুতে থাকে এবং সুলতান আহমেদ এর বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে উত্তরে চাঁদগাজী বাজার পশ্চিমে ধোপাদীঘি ও দক্ষিণে মির্জার বাজারে অবস্থানরত পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে প্রচন্ড যুদ্ধ হয় এবং যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়। বিভিন্ন দিক থেকে মুক্তি যোদ্ধাদের প্রবল আক্রমনের মুখে ছাগলনাইয়া ফুলগাজী বিলোনিয়া ডিসেম্বর এর প্রথম সপ্তাহে শত্রু মুক্ত হয়।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব’র যুগ্ন সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম। এতে পোর্টল্যান্ড গ্রুপের পরিচালক রবিউল হোসেন বাবুসহ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয় “ আলহাজ্ব সুলতান আহম্মেদ মিলনায়তন”।

বিএনএনিউজ/আমিন